জীবজগতে নিয়ন্ত্রন ও সমন্বয় 2

Class 10 Life Science -জীবজগতের নিয়ন্ত্রন ও সমন্বয় 

Table of Contents

জীবজগতের নিয়ন্ত্রন ও সমন্বয়

Class 10 Life Science Short Question Answer Chapter 1

1.   সংবেদনশীলতা ও সংবেদন বলতে কী বোঝ?

Ans.  সংবেদনশীলতা। জীবের যে-কোনো ধরনের পরিবর্তন শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী সাড়াপ্রদানের ক্ষমতাকে     সংবেদনশীলতা ( sensitivity) বলে।

সংবেদন : চাপ, তাপ, আলো ইত্যাদি উদ্দীপকের উপস্থিতিতে জীবদেহে যে সকল অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তাকে সংবেদন বলে।

2.   সাড়া কী?

Ans. সাড়া বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের প্রভাবে জীবদেহে যে সকল পরিবর্তন ঘটে, তার বহিঃপ্রকাশকে সাড়া (response)বলে

3.  উদ্দীপক কী? উদাহরণ দাও।

Ans. উদ্দীপক যেসব বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ অবস্থা বা পদার্থ। জীবদেহে এক বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে জীবকে প্রতিক্রিয়া বা সাড়াপ্রদানে সক্ষম করে তোলে, তাকে উদ্দীপক বলে। উদাহরণ চাপ, তাপ, আলো, ক্ষুধা, তৃষ্বা ইত্যাদি।

4.  বাহ্যিক উদ্দীপক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

      Ans. বাহ্যিক উদ্দীপক : যেসব পদার্থ বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা জীবদেহের বাইরের থেকে জীবের ওপর প্রভাব বিস্তার করে তার মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে, তাদের বাহ্যিক উদ্দীপক (external stimuli) বলে।

উদাহরণ:- আলো, চাপ, তাপ, বায়ু ইত্যাদি।

5.  অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

Ans. অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক: জীবের দেহমধ্যস্থ যেসব বিশেষ অবস্থা জীবদেহের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে, তাদের অভ্যন্তরীণ বৃি উদ্দীপক (internal stimuli) বলে।

উদাহরণ:- ক্ষুধা, তৃয়া ইত্যাদি।

6.   উদ্ভিদের চলন বলতে কী বোঝ ?

Ans. উদ্ভিদের চলন যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ এক জায়গায় স্থির থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা পরিবেশের বিভিন্ন বাহ্যিক বা দেহস্থ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের প্রভাবে দেহের কোনো অংশ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ  সঞ্চালন করে, তাকে উদ্ভিদের চলন বলে।

7.  উদ্ভিদ চলনের উদ্দেশ্যগুলি কী কী?

Ans. উদ্ভিদ চলনের উদ্দেশ্য :-

(i) উপযুক্ত পরিমাণ জল ও খনিজ লবণের খোঁজে উদ্ভিদের মূল মাটির গভীরে ক্রমাগত প্রবেশ করে অর্থাৎ হাইড্রোট্রপিক চলন দেখায়।

(ii) পর্যাপ্ত সূর্যালোক, বায়ু ইত্যাদির সন্ধানে কান্ড ও শাখাপ্রশাখার বিভিন্ন দিকে চলন ঘটে।

8.  উদ্ভিদের আবিষ্ট চলন কতপ্রকার ও কী কী?

Ans. উদ্ভিদের আবিষ্ট চলন তিনপ্রকার, যথা- (i) ট্যাকটিক চলন, (ii) ট্রপিক চলন ও (iii) ন্যাস্টিক চলন ।

9.  সামগ্রিক চলন কাকে বলে?

Ans. সামগ্রিক চলন:– যখন সমগ্র উদ্ভিদদেহ বা উদ্ভিদদেহের কোনো অংশ বা কোনো কোশ বা কোশের প্রোটোপ্লাজম উদ্দীপকের প্রভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাব ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামগ্রিকভাবে একস্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়, তখন তাকে সামগ্রিক চলন বলে।

10. সামগ্রিক চলন কত প্রকার ও কী কী?

Ans. সামগ্রিক চলনের প্রকার : উদ্ভিদের সামগ্রিক চলন দুই প্রকার, যথা—(i) স্বতস্ফূর্ত সামগ্রিক চলন ও (ii) আবিষ্ট সামগ্রিক চলন বা ট্যাকটিক চলন।

11.  স্বতঃস্ফূর্ত সামগ্রিক চলন কাকে বলে?

Ans. স্বতঃস্ফূর্ত সামগ্রিক চলন : বাহ্যিক উদ্দীপকের ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদদেহ বা উদ্ভিদ অঙ্গের যে সামগ্রিক চলন ঘটে, তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সামগ্রিক চলন বলে।

12.  ট্যাকটিক চলন বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।

Ans. ট্যাকটিক চলন : বহিস্থ উদ্দীপকের (আলো, তাপমাত্রা, জল) প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদদেহ বা উদ্ভিদ দেহাংশের যে সামগ্রিক চলন ঘটে, তাকে ট্যাকটিক চলন বলে।

*উদাহরণ :- ফার্নের শুক্রাণুর ম্যালিক অ্যাসিডের আকর্ষণে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হওয়া একপ্রকার ট্যাকটিক চলন।

 13.  বক্রচলন বলতে কী বোঝ?

Ans. বক্রচলন : স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাবে আভ্যন্তরীণ বুদ্ধিজনিত বা রসস্ফীতিজনিত কারণে উদ্ভিদ অঙ্গের যে চলন ঘটে এবং যার ফলে উদ্ভিদ অঙ্গ নানাভাবে বেঁকে যায়, তাকে বক্রচলন বলে।

  14. বক্রচলন কত প্রকার ও কী কী?

Ans. বক্রচলন প্রকারভেদ : বজ্রচলন দুই প্রকার। যথা- (i) স্বতঃস্ফূর্ত রক্ৰচলন ও (ii) আবিষ্ট বচলন।

  15. স্বতঃস্ফূর্ত বক্রচলন কী?

Ans. স্বতঃস্ফূর্ত রক্ৰচলন : বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাব ছাড়াই প্রোটোপ্লাজমের অন্তঃস্থ উদ্দীপক দ্বারা যে বক্রচলন সম্পন্ন হয়, তাকে স্বতঃস্ফূর্ত রক্ৰচলন বলে।

উদাহরণ : শিম, অপরাজিতা ইত্যাদি উদ্ভিদের বলন বা ন্যুটেশন।

16. আবিষ্ট বক্রচলন কী?

Ans. আবিষ্ট বক্রচলন : বাহ্যিক উদ্দীপকের (উদ্দীপকের গতিপথ বা তীব্রতা) প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের পরিণত অঞ্চলে যে বক্রচলন ঘটে, তাকে আবিষ্ট বক্রচলন বলে।

17. আবিষ্ট বচলন কত প্রকার ও কী কী ?

Ans. আবিষ্ট বজ্রচলনের প্রকারভেদ : আবিষ্ট বক্রচলন প্রধানত দু-ধরনের হয়। যথা-

(i) দিকনির্ণীত চলন বা ট্রপিক চলন এবং

(ii) ব্যাপ্তি চলন বা ন্যাস্টিক চলন।

18. দিকনির্ণীত চলন বা ট্রপিক চলন কাকে বলে?

Ans. দিকনির্ণীত চলন বা ট্রপিক চলন:- যে আবিষ্ট বক্রচলন বাহ্যিক উদ্দীপকের উৎস বা গতিপথ অনুসারে ঘটে, তাকে দিকনির্ণীত চলন বা ট্রপিক চলন বলে।

19. ট্রপিক চলন প্রধানত কত প্রকার ও কী কী?

Ans. ট্রপিক চলনের প্রকারভেদ: ট্রপিক চলন বা ট্রপিজম প্রধানত তিন প্রকারের হয়।

যথা- (i)      ফটোট্রপিক চলন বা ফটোট্রপিজম,

(ii)      জিওট্রপিক চলন বা জিওট্রপিজম ,

(iii)     হাইড্রোট্রপিক চলন বা হাইড্রোট্রপিজম।

20. ফটোট্রপিজম বা ফটোট্রপিক চলন কী? উদাহরণ দাও।

Ans. ফটোট্রপিজম বা ফটোট্রপিক চলন : উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গের যে আবিষ্ট বক্রচলন আলোর উৎস বা গতিপথ অনুসারে হয়, তাকে ফটোট্রপিজম বা ফটোট্রপিক চলন বলে।

* উদাহরণ: উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখাপ্রশাখা সূর্যের আলোর দিকে বৃদ্ধি পাওয়া একটি ফটোট্রপিজম।

21. ফাটাটপিক চলন কত প্রকার ও কী কী?

Ans. ফটোট্রপিক চলনের প্রকারভেদ : ফটোট্রপিক চলন তিন প্রকার,

যথা— (i) পজিটিভ ফটোট্রপিক বা অনুকূল আলোকবর্তী চলন,

(ii)নেগেটিভ ফটোট্রপিক বা প্রতিকূল আলোকবর্তী চলন,

(iii) ডায়াফটোট্রপিক বা তির্যক আলোকবর্তী চলন।

22. অনুকূল আলোকবর্তী চলন কী? উদাহরণ দাও।

Ans. অনুকূল আলোকবর্তী চলন :- যে ট্রপিক চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ আলোক উৎসের বা গতিপথের দিকে বৃদ্ধি পায়, তাকে অনুকূল আলোকবর্তী চলন বা পজিটিভ ফোটোট্রপিজম বলে।

·        উদাহরণ : উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখাপ্রশাখার আলোর দিকে বৃদ্ধি পাওয়া।

23. প্রতিকূল আলোকবর্তী চলন কী? উদাহরণ দাও।

Ans. প্রতিকূল আলোকবর্তী চলন : যে ট্রপিক চলনে উদ্ভিদ অঙ্গা আলোক উৎসের বা গতিপথের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়, তাকে প্রতিকূল আলোকবর্তী চলন বা নেগেটিভ ফোটোট্রপিজন বলে।

·        উদাহরণ : আলোক উৎসের বিপরীত দিকে মূলের বৃদ্ধি।

24.  তির্যক আলোকবর্তী চলন কী? উদাহরণ দাও।

Ans. তির্যক আলোকবর্তী চলন : যে ট্রপিক চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ আলোকরশ্মির সঙ্গে তির্যকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাকে তির্যক আলোকবর্তী চলন বলে।

·        উদাহরণ : আলোক রশ্মির সঙ্গে পাতার তির্যকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া।

25 হাইড্রোট্রপিজম কী? উদাহরণ দাও।

Ans. হাইড্রোট্রপিজম : উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গের যে ট্রপিক চলন জলের উৎস বা গতিপথ অনুসারে হয়, তাকে হাইড্রোট্রপিজম বা হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তিজ চলন বলে।

·         উদাহরণ : প্রধান মূলের জলের উৎসের দিকে বৃদ্ধি পাওয়া একটি হাইড্রোট্রপিজম।

26. অনুকূল জলবৃত্তিদ্ধ চলন বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।

Ans. অনুকূল জলবৃত্তিজ চলন : যে প্রকার জলবৃত্তিঙ্গ চলনে উদ্ভিদ অঙ্গের বৃদ্ধি জলের উৎসের অনুকূলে ঘটে, তাকে অনুকূল জলবৃত্তিঞ্জ চলন বা পজিটিভ হাইড্রোট্রপিজম বলে।

·        উদাহরণ : উদ্ভিদের মূল জলের উৎসের দিকে অগ্রসর হয়।

27. প্রতিকূল জলবৃত্তিজ চলন বলতে কী বোঝা ? উদাহরণ দাও। •

Ans. প্রতিকূল জলবৃত্তিঙ্গ চলন : যে প্রকার জলবৃত্তিদ্ধ চলনে উদ্ভিদ অঙ্গের বৃদ্ধি জলের উৎসের প্রতিকূলে ঘটে, তাকে প্রতিকূল জলবৃত্তিজ চলন বা নেগেটিভ হাইড্রেট্রপিজম বলে।

·        উদাহরণ : জলের উৎসের বিপরীতে কাণ্ডের বৃদ্ধি।

28 *জিওট্রপিজম কী? উদাহরণ দাও।

Ans. জিওট্রপিজম : যে ট্রপিক চলন অভিকর্ষ বলের গতিপথ অনুসারে ঘটে, তাকে জিওট্রপিজম বা জিওট্রপিক চলন বলে।

·        উদাহরণ : অভিকর্ষ বলের প্রভাবে উদ্ভিদের মূলের মাটির গভীরে প্রবেশ করা হল একটি জিওট্রপিজম।

29. জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষবর্তী চলন কত প্রকার ও কী কী ?

Ans. পজিওট্রপিক চলন চার প্রকার-

(i)       অনুকূল অভিকর্ষবর্তী চলন,

(ii)      প্রতিকূল

(iii)    তির্যক অভিকর্ষবর্তী চলন

(iv)     ভায়াজিওট্রপিক চলন ।

30. অনুকূল অভিকর্ষবর্তী চলন বলতে কী বোঝা ?  উদাহরণ দাও।

Ans. পজিটিভ জিওট্রপিক বা অভিকর্ষবর্তী চলন:-  যে জিওট্রপিক চলনে উদ্ভিদ অন্য অভিকর্ষ বলের অনুকূলে বৃদ্ধি পায়, তাকে অনুকূল অভিকর্ষবর্তী চলন বা পজিটিভ জিওট্রপিজম বলে।

·        উদাহরণ : উদ্ভিদের প্রধান মূল অভিকর্ষ বলের অনুকূলে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে বৃদ্ধি পায়।

31.  প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী চলন কী ?

Ans. নেগেটিভ জিওট্রপিক বা প্রতিকূল অতিকর্মবর্তী চলন যে জিওট্রপিক চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ অভিকর্ষ বলের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়, তাকে প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী চলন বা নেগেটিভ জিওট্রপিজম বলে।

·        উদাহরণ : কাণ্ড অভিকর্ষ বলের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়। গরান, গেওয়া প্রভৃতি লবণাম্বু উদ্ভিদের শ্বাসমূলে নেগেটিভ জিওট্রপিজম দেখা যায়।

32. তির্যক অভিকর্ষবর্তী চলন বলতে কী বোঝ?

Ans. তির্যক অভিকর্ষবর্তী চলন : যে অভিকর্ষবর্তী চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ অভিকর্ষ বলের সঙ্গে তির্যকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাকে তির্যক অভিকর্ষবর্তী চলন বলে।

·        উদাহরণ : উদ্ভিদের শাখামূলগুলি অভিকর্ষ বলের সঙ্গে তির্যকভাবে বৃদ্ধি পায়।

33. ডায়াজিওট্রপিক চলন কী?

Ans. ডায়াজিওট্রপিক : যে জিওট্রপিক চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ অভিকর্ষ বলের সঙ্গে সমকোণে বৃদ্ধি পায়, তাকে ডায়াজিওট্রপিক চলন বা ডায়াজিওট্রপিজম বলে।

·          উদাহরণ : আদার গ্রন্থিকন্দের অনুভূমিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া।

34.   একটি টবের লম্বা সোজা একক বিটপযুক্ত উদ্ভিদকে ভূমির সমান্তরাল অবস্থায় সাত দিন রাখলে বিটপ অংশ বেঁকে ভূমির সঙ্গে লম্বভাবে অবস্থান করার কারণ কী?

Ans. ভূমির সঙ্গে বিটপের লম্বভাবে অবস্থানের কারণ : উদ্ভিদের বিটপ আলোক অনুকূলবর্তী ও অভিকর্ষ প্রতিকূলবর্তী অঙ্গ। উদ্ভিদের বিটপকে সাত দিন ভূমির সমান্তরালে রাখলে আলোক উৎসের দিকে বৃদ্ধি পাবার জন্য বিটপ বেঁকে ভূমির সঙ্গে লম্বভাবে অবস্থান করে।

35.   ন্যাস্টিক বা ব্যাপ্তি চলন কাকে বলে?

Ans. ন্যাস্টিক বা ব্যাপ্তি চলন : উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদের যে আবিষ্ট বক্রচলন বাহ্যিক উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে ব্যাপ্তি চলন বা ন্যাস্টিক চলন বলে।

36. উদ্ভিদের ন্যাস্টিক চলন কত প্রকার ও কী কী?

Ans. ন্যাস্টিক চলনের প্রকারভেদ : ন্যাস্টিক চলন প্রধানত পাঁচ ধরনের হয়

যথা— (i) ফাটোন্যাস্টিক চলন,

(ii) থার্মোন্যাস্টিক চলন,

(iii) নিকটিন্যাস্টিক চলন,

(iv) সিসমোন্যাস্টিক চলন ও

(v) কেমোন্যাস্টিক চলন।

   37. থার্মোন্যাস্টিক চলন কী? উদাহরণ দাও।

Ans. থার্মোন্যাস্টিক চলন : যে ন্যাস্টিক চলন তাপমাত্রা বা উয়তার তীব্রতার দ্বারা ঘটে, তাকে থার্মোন্যাস্টিক চলন বলে।

·        উদাহরণ : টিউলিপ ফুলের পাপড়ি বেশি উয়তায় ফোটে আবার কম উয়তায় বন্ধ হয়ে যায়।

38.   ফটোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

Ans.  ফটোন্যাস্টিক চলন : আলোক উদ্দীপকের তীব্রতার হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে উদ্ভিদ অঙ্গের রসস্ফীতিজনিত আবিষ্ট বক্রচলনকে ফটোন্যাস্টিক চলন বলে।

·         উদাহরণ:- সূর্যমুখী, পদ্ম প্রভৃতি ফুল দিনের বেলায় তীব্র আলোকের উপস্থিতিতে ফোটে এবং অন্ধকারে বন্ধ হয়ে যায়। আবার জুঁই, সন্ধ্যামালতী অন্ধকারে ফোটে এবং দিনের আলোয় বন্ধ হয়ে যায়।

39.   নিকটিন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

Ans.  আলো ও তাপমাত্রা উভয়ের তীব্রতা হ্রাস বৃদ্ধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের রসস্ফীতিজনিত আবিষ্ট বক্রচলনকে নিকটিন্যাস্টি বা নিকটিন্যাস্টিক চলন বলে।

·         উদাহরণ:- —প্রখর রোদে ও তীব্র নিকটিন্যাস্টিক চলন উন্নতায় তেঁতুল, কুয়চূড়া জাতীয় উদ্ভিদের পত্রকের উন্মোচন হয়। এইপ্রকার চলনকে নিদ্রা চলন (sleeping movement)-ও বলে।

40.   কেমোন্যাস্টিক চলন বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।

Ans. কেমোন্যাস্টিক চলন : রাসায়নিক পদার্থের (ইথার, ক্লোরোফর্ম, প্রোটিন) তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের রসস্ফীতিজনিত আবিষ্ট বক্র চলনকে কেমোন্যাস্টিক চলন বলে।

·        উদাহরণ : পতঙ্গের স্পর্শে সূর্যশিশিরের পত্ররোমের চলন একপ্রকারের কেমোন্যাস্টিক চলন। ডায়োনিয়ার পত্ররোমের চলন এক প্রকারের কেমোন্যাস্টিক চলন।

41.   সিসমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

Ans. সিসমোন্যাস্টিক চলন : স্পর্শ উদ্দীপনা বা আঘাতজনিত উদ্দীপনার (বায়ুপ্রবাহ, কম্পন, বৃষ্টির সময় জলবিন্দুর পতন) তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের রসস্ফীতিজনিত আবিষ্ট বক্রচলনকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বলে।

·        উদাহরণ : লজ্জাবতীর পত্রকগুলি স্পর্শ করলে মুড়ে যায়।

42.   জলের ঢেউ বা বাতাসের টানে জলজ ভাসমান উদ্ভিদ একস্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তরিত হওয়াকে কী গমন বলা যায়? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

Ans. জলের ঢেউ বা বাতাসের টানে জলজ ভাসমান উদ্ভিদের অন্যত্র গমন :- স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাবে সাড়া দিতে জীবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের দ্বারা স্থানান্তরকে গমন বলে। কিন্তু ঢেউ বা বাতাসের টানে জলজ ভাসমান উদ্ভিদ স্থানান্তরিত হলে তাকে গমন বলা যায় না, কারণ এক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাবে জলজ ভাসমান উদ্ভিদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন ঘটে না।

   43. থিগ্‌মোট্রপিজম বা হ্যাপ্‌টোট্রপিজম কাকে বলে?

Ans. থিগমোট্রপিজম বা হ্যাপ্‌টোট্রপিজম : উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন কোনো বস্তুর স্পর্শের প্রভাবে ঘটে, তাকে থিগ্‌মোট্রপিজম বা হ্যাপটোট্রপিজম বলে।

44.   প্রকরণ চলন কী?

Ans. প্রকরণ চলন উদ্ভিদকোশের রসস্ফীতির তারতম্যের জন্য উদ্ভিদ অঙ্গের পরিণত অঞ্চলে যে স্বতঃস্ফূর্ত বচল দেখা যায়, তাকে প্রকরণ চলন বলে। 1

·        উদাহরণ : বনচাঁড়ালের পাতার ন ত্রিফলকের পার্শ্বপত্রকের পর্যায়ক্রমিক ওপর-নীচে ওঠানামা এই ধরনের চলন।

     45. প্রকরণ চলনকে রসস্ফীতিজনিত চলন বলার কারণ কী?

Ans. প্রকরণ চলনকে রসস্ফীতিজনিত চলন বলার কারণ : প্রকরণ চলন হল একপ্রকার বক্রচলন। এইপ্রকার চলনে উদ্ভিদের পাতার কোশে অভিস্রবণের কারণে রসস্ফীতজনিত চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে, এই কারণে এইপ্রকার চলনকে রসস্ফীতিজনিত চলন বলে।

     46. চলন ছাড়া গমন সম্ভব নয় কেন?

Ans. চলন ছাড়া গমন সম্ভব নয় : একস্থানে আবদ্ধ থেকে জীবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনকে বলে চলন। অপরপক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাবে জীবদেহের অপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালনের মাধ্যমে সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে বলে গমন। অর্থাৎ গমনের জন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় কিন্তু চলনে যেহেতু দেহের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না, সেইজন্য বলা যেতে পারে চলন ছাড়া গমন সম্ভব নয়।

YOU ALSO MAY LIKE THIS POST:

  1. জীবন ও তার বৈচিত্র- ক্লাস ৯ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর—–> Click here
  2. জীবন ও তার বৈচিত্র্য প্রশ্ন উত্তর ক্লাস ৯——->Click Here
  3. গ্রহরুপে পৃথিবী- CLASS 9 SHORT Question
  4. পরিমাপ- ক্লাস ৯ প্রশ্ন উত্তর | Measure Class 9 Question Answer
  5. জীববিদ্যা ও তার শাখাসমূহ – Class 9
  6. পরিমাপ- ক্লাস ৯ প্রশ্ন উত্তর | Measure Class 9 Question Answer
  7. পরিমাপ Question Answer Class 9
  8. Class 9 Geography Chapter 1 MCQ of Graharupa Prithibi
  9. গ্রহরুপে পৃথিবী -Class 9 Question Answer
  10. Class 10 Short Question Life Science Chapter-1

 

 

 

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *